মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ন
সংগৃহীত ছবি অনলাইন ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: জাপানকে কয়েক দশকের বন্ধু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ-জাপানের এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করেই আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাইয়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তি প্রিয় দেশ জাপান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আমাদের স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দিকের দেশগুলোর অন্যতম। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ও আমি দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। এ আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), রেল ও অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়িয়ে আমাদের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে আমরা অভিন্ন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছি।
সরকারপ্রধান বলেন, এই সফরে আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছি এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় করেছি। আমাদের আলোচনার ফলাফল ও অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হবে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আজ আমাদের সামনে এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। আমি জাপানের বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করার এবং আমাদের উন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়ের অংশীদার হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিক লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আমরা জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসুন, আমরা একসঙ্গে আমাদের দুই মহান দেশের জন্য আরও সহনশীল, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।